বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতাল, ২ লাখ মানুষের ৭ জন চিকিৎসক
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রায় ২ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করে। চিকিৎসা সেবা পাওয়ার একমাত্র স্থান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেপুটেশনসহ ০৭ জন চিকিৎসক দ্বারা চলছে ২ লাখেরও বেশি মানুষের চিকিৎসা সেবা কাজ। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসকরা হিমসিম খাচ্ছে চিকিৎসা সেবা প্রদানে অন্যদিকে সেবাবঞ্চিত হচ্ছে রোগীরাও।
হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৬ বছরের শিশু শেফা আক্তার। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উজিমুনি গ্রামের সেলিম উদ্দীনের মেয়ে সে। এ বছরই নতুন স্কুলে ১ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে।
চিকিৎসা সেবা নিয়ে বাড়ী গত শুক্রবার বাড়ী ফিরেছে শেফা আক্তার
প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে গত ৫ দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডের ৩নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে। কিছুটা ভাল হয়েছে বলে জানায় শেফা। গত পাঁচদিন মাথার পাশ থেকে সড়েনি তার বাবা সেলিম উদ্দীন।
সেলিম উদ্দীন জানায়, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিজ্ঞ কোন শিশু চিকিৎসক না থাকার কারণে চিকিৎসা নিতে কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। এমনকি শিশুর স্যালাইন দেবার জন্য কেনুলা করার মত একজন অভিজ্ঞ নার্সও নেই বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিক্ষানবিস শিশু ডাক্তার উম্মে কুলসুম মনি জানায়, গত ১৫ দিন ঠান্ডায় শিশুদের রোগ ব্যাপক বেড়েছে। দেখা দিয়েছে ডাররিয়া, নিমুনিয়া, সর্দি,কাশিসহ নানা রোগ দেখা দিয়েছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি শিশুদের সেবাযত্মের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা প্রদানের।
তবে শিশু ডাক্তার না থাকার কারণে প্রায় ২০ কিলোমিটার দুর থেকে এসেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিশু রোগে আক্রান্ত নানা রোগীরা। ডাক্তারের সেবা পেতে ছুটতে হচ্ছে আধুনিক সদর হাসপাতাল ঠাকুরগাঁওয়ে। তবে সেখানেও ৫টি উপজেলা এবং পঞ্চগড়ের আটোয়ারী, বোদা উপজেলার রোগীদের ভিড়ে তেমন সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না অভিযোগ চিকিৎসা সেবা নিয়ে আসা শিশু রোগীদের অভিভাবকগণের।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১৫ কিলোমিটার দুরে আমজানখোর কালিবাড়ী গ্রামের নগেন পাল বলেন, ছেলের ডায়রিয়া হলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে নিয়ে যায় ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে। সেখানেও রোগীদের ভিড়ে শিশুটির অবস্থা আশংকাজনক দেখে তিন দিন ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা করিয়ে বাড়ী ফিরেছেন তিনি।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মুনিরুজ্জামান লিমন বলেন, চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। জনবল সংকট থাকলে একটু সমস্যা হবেই।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৮ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এখানে ডেপুটেশন ২ জনসহ মোট ৭ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। ২৮ জন চিকিৎসকের স্থলে ০৭ জন চিকিৎসক দিয়ে সেবা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি আমরা। উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসকের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আমরা আশাবাদী খুব শ্রীঘ্রই এ সংকঠ নিরসন হবে।
No comments
Post a Comment